চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও বিশেষ করে পৌর এলাকায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যের চেয়ে বাস্তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুণ বেশি বলে দাবি করছে 'দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকাকে অবিলম্বে ‘ডেঙ্গু রেড জোন’ ঘোষণা এবং ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম পাঠানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রায় দুই বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব থাকলেও, বর্তমানে তা ভয়াবহ মহামারী রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি চেম্বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ওবায়দুল আজিম রিংকুসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। স্থানীয়দের মতে, পৌর এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে আসল চিত্রের প্রতিফলন নেই।
প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী নিজ উদ্যোগে বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের তথ্য সরকারি তালিকায় উঠছে না। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় স্থানান্তরের পর মারা যাওয়া রোগীদের নামও নেই স্থানীয় খাতায়। মহামারী করোনার সময়েও এই শহরে ডেঙ্গুর মতো এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চললেও, তদারকির অভাবে খালের পানি ও ময়লা আবর্জনা জমে মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। এছাড়া মহানন্দা নদীর পাড়, বিভিন্ন বিল ও পুকুরে ফেলা ময়লা মশার প্রজনন বাড়িয়ে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২ দফা জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— পৌর এলাকাকে জরুরি 'রেড জোন' ঘোষণা করা। ঢাকা থেকে ১৫-২০ জন ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো। প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বদলীয় ও সেবামূলক প্রজনন ধ্বংস কমিটি গঠন করা। দ্রুত মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা।
প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় জনগণ সমন্বিতভাবে কাজ না করলে এই মহামারী সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন চেম্বার নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে ডেঙ্গু মুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।