
নিউজ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার যে নির্দেশনা জারি করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), তার কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাই কোর্ট।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে, ডিএমপির সেই নির্দেশনা কেন ‘বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদ্দিন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), ডিএমপি কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিল ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়- বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলায় এজাহারনামীয় বা তদন্তে প্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও, অডিও, ছবি, মোবাইল কললিস্ট বা সিডিআরসহ উপযুক্ত প্রমাণ থাকার শর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, এ ধরনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) পরিপন্থী। তিনি জানান, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। সেই অবস্থায় ডিএমপির এমন নির্দেশনা অবৈধ ও আইনের লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সিআরপিসির আওতায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ ডিএমপির এই নির্দেশ সেই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে দেওয়ার শামিল।