
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর জেলা পরিষদের অধীনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৪টি ফেরিঘাট এক মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই সরকারি নিয়ম মেনে ইজারাদাররা টোল আদায় করছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার বড়গাছি পেটাউ বিদিরপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার সরকারি নীতিমালা অনুসারে যাত্রী পারাপার ও মালামাল, কৃষি সামগ্রী পরিবহনে নির্ধারিত টোল আদায় করছেন। প্রতিদিন চর আষাড়িয়াদহ থেকে শতাধিক মানুষ নৌকায় বিদিরপুরে পার হচ্ছেন, যাদের কাছ থেকে মাত্র ৫ টাকা করে টোল নেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, একটি পক্ষ সরকারি ইজারাকৃত বিদিরপুর ফেরিঘাট উন্মুক্ত রাখার জন্য ইজারাদারকে হুমকি দিচ্ছে। ঘাট মালিক ও নৌকার মাঝিদের দাবি, একইসাথে টোল ও নৌকা ভাড়া আদায়ের জন্যও একটি পক্ষ চাপ প্রয়োগ করছে। এতে করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চর আষাড়িয়াদহ এলাকার কিছু যুবকের দাবি, ঘাটটি উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং ঘাটের টোল ও নৌকা ভাড়া একসঙ্গে আদায় করতে হবে।
বিদিরপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার ও নৌকার মাঝিরা জানান, “সরকার থেকে নিয়ম মেনে ঘাট ইজারা নিয়েছি। নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী টোল আদায় করছি। এর আগেও এভাবেই পরিচালিত হয়েছে। এক মাসের জন্য সরকারকে টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। যদি পরে সরকার ঘাট উন্মুক্ত রাখে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, “একটি পক্ষ জোরপূর্বক ঘাট উন্মুক্ত রাখতে চাপ দিচ্ছে। টোল ও নৌকা ভাড়া আদায়ে টালবাহানা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে একসাথে দুই আদায় করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজশাহী জেলা পরিষদ ৪টি ফেরিঘাট ইজারার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে বড়গাছি পেটাউ বিদিরপুর ঘাটটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এক মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয় লিমন নামে এক ইজারাদারকে। আর ফুলতলা ভাটোপাড়া ঘাট ৫৫ হাজার টাকায় ইজারা পান আইনুল নামে আরেকজন।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা হাসান বলেন, “ফেরিঘাট একটি সরকারি সম্পদ। এটি ইজারা দিয়ে পরিচালনা করা হয় এবং ঘাট উন্মুক্ত রাখার কোনো সুযোগ নেই। টোল ও নৌকা ভাড়ার জন্য সরকারি মূল্য তালিকা নির্ধারিত থাকে। এর বাইরে আদায় করা যাবে না। কেউ যদি ইজারাদারকে বাধা দেয় বা ঘাট উন্মুক্ত রাখতে চায়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইজারাদার লিখিত অভিযোগ দিলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







