
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৬টি অধ্যাদেশ (আইন আকারে পাশ না হওয়ায় সেগুলো) কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এরমধ্যে গুম প্রতিরোধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিল হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশগুলো এখনই পাশ না করা বা রহিত করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি বিল আকারে এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে (বিল আকারে) উপস্থাপন করা হবে। বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি বাতিল, আর ১৬টি এখনই সংসদে পাশের জন্য বিল আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। ফলে (১০ এপ্রিলের মধ্যে পাশ না হলে) পুরোপুরি কার্যকারিতা হারাচ্ছে এই অধ্যাদেশগুলো।
এসব অধ্যাদেশগুলো এখনই বাতিল করায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিএনপি সরকার অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। তাদের নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর পরিণতি নিয়ে পুনরায় ভাবা উচিৎ।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের তুমুল সমালোচনা করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ঘোষণা দিয়ে আদালতের রায়কে অবমাননা করছে সরকারি দল। বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই অধ্যাদেশ বাতিল একটি ব্লাক ডে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে বাতিল করা অধ্যাদেশের কারণ ব্যাখ্যা করার আহবান জানান সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। এছাড়া নির্বাহী আদেশে আ. লীগকে নিষিদ্ধ করার সমালোচনাও করেন তিনি।
একের পর এক অধ্যাদেশ বাতিলের সমালোচনা করে এনসিপির সামান্তা শারমিন বলেন, এগুলোর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। সকালে ডাকসু আয়োজিত আরেক অনুষ্ঠানে এনসিপির সরোয়ার তুষার বলেন, গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাড়া করে বেড়াবে।
বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে না জানিয়ে খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, তারা ২৪ এর ইতিহাস ধ্বংস করতে চাচ্ছে। এবি পার্টির সম্পাদক ফুয়াদ বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বিএনপি।
কার্যত এসকল বিষয় নিয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে চায়ের দোকানের রাজনৈতিক আলোচনা থেকে জাতীয় সংসদ। বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর।