নিজস্ব প্রতিবেদক: আড়াই হাজার টাকা বাজেট নিয়ে পোষাক কিনতে আসেন এমরান আলী। বাজেটের তুলনায় পছন্দের পোষাকের দাম বেশি। তাই বাজেটের সাথে সমন্বয় রেখে উপজেলা সদরে সাত্তার প্লাজার ‘জমজম বস্ত্র বিতান থেকে দুই মেয়ের জন্য ১৫০০ টাকা দামের জরজেট পার্টি ড্রেস, ৮৫০ টাকা দিয়ে ছেলের বউ এর জন্য নিলেন থ্রিপিচ। নিজের ও স্ত্রীর কোন কিছুই কেনাকাটা করা হয়নি তার। জানালেন দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালিয়ে বাড়তি কেনা কাটা করা অনেকটাই কষ্টের। তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষ রায়হান আলী। লেডিস কর্নার এন্ড ফ্যাশন গ্যালারী থেকে ৫০০শ ও ২৫০শ টাকা দিয়ে ৫ বছর ও আড়াই বছর বয়সের ছেলে-মেয়ের জন্য পোষাক কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। কথা হলে জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি দামে পোষাক কিনেছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দাম বাড়লেও সব ধরনের পোষাকের দাম এবার বাড়েনি। ঈদের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে বেচা-কেনা ততোই বাড়ছে বলে জানান। উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে,পুরুষের তুলনায় নারি ক্রেতার সংখ্যা বেশি।
খন্দকার শপিং কমপ্লেক্সের ‘মা ফ্যাসন’ এর স্বত্তাধিকারি আলমগীর হোসেন ও সাত্তার প্লাজার ডায়মন্ড কালেকশনের স্বত্তাধিকারি সুজিত কুমার সরকারসহ অভিজাত বস্ত্র বিতানের মালিকরা জানান, ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষের বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তুলেছেন তারা। খদ্দের সামাল দিতে বাড়িয়েছেন কর্মচারির সংখ্যাও।
১৭ রমজানের পর থেকে বেচা কেনা বেড়েছে। এর মধ্যে বাচ্চাদের যুবক যুবতীদের পোষাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। শেষের দিকে আরো বাড়তে পারে বলে আশা তাদের।
শুক্রবার(১৩-০৩-২০২৬) উপজেলার বাঘা পৌর সদরের পোশাক বাজার ও ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ইন্ডিয়ান, চাইনা পোষাকের পাশাপাশি পাকিস্থানী পোষাকের চাহিদা বেশি। ৩ (তিন) হাজার থেকে ৪(চার) হাজার টাকা দামের তানা পানা শাড়ী বিক্রি হ্েচ্ছ ২০০শ’টাকা বেশি দামে। বিক্রি বেড়েছে ২(দুই) হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের ডিজিটাল প্রিন্ট শাড়ী, পাকিস্থানী থ্রিপিচ-কর্টন,কোর পিন, ওড়না,হিজাব,কোয়ালিটি ভেদে বাচ্চাদের পায়জামা,জামা ওড়না, গাবারা, সাবারা, পার্টি ড্রেস (জরজেট) সুতির ফ্লগ, গ্রাউন, ছেলেদের টি শার্ট, কারকো প্যান্ট,জামাই প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট,ইন্ডিয়ান মেগনেট ফুল হাতা শার্ট এর ।
মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ৫০০ থেকে ১২০০শ টাকা দামের গ্রাউন,সুতির ফ্লগ,৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের পার্টি ড্রেস, দেড় হাজার থেকে ৩০০০ টাকা দামের জামা,পায়জামা,ওড়না বেশি কিনছেন।
প্রজাপতি ফ্যশান এর স্বত্তাধিকারি সুবদেব সরকার সহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, শিশু থেকে সব বয়সের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দেশী কাপড়ের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান,পাকিস্থান,চায়নাসহ শতাধিক ব্যান্ডের বিভিন্ন দামের বাহারি নামের পোষাক তুলেছেন। বড়দের ১৫০০ থেকে ৪৫০০ দামের চায়না গেঞ্জি-টিশার্ট, ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের ফুলহাতা রিচ কালেকশন শার্ট,২০০০ থেকে-৩৫০০ টাকার ফুলহাতা শার্ট,১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা দামের সুলতানি পাঞ্জাবি, ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের কাবলি সেট, শেখশাদি পাঞ্জাবি ছাড়াও ৫০০ টাকা থেকে ৬ (ছয়) হাজার টাকা দামের গাবারা,সাবারা,২৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের কাতান শাড়ি,৩৫০০শ থেকে ১২ হাজার টাকার লেহাংগা থ্রিপিচ,৩০০০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা দামের টিসু কাতান,৩৫০০ টাকার চন্দ্রি গ্রাউন, ছোটদের ১০০০ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা দামের রানি ফ্লগ, ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দামের সুতি ফ্লগ,৭০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের লেহেংগা রয়েছে।
বাঘ পৌর সদরে মাজেদা প্লাজার রুপম ফাশান এন্ড গার্মেন্টস,লেডিস কর্নার এন্ড ফ্যাশন গ্যালারীর স্বত্তাধিকারি আজমুল কামাল, গ্যালারী এন্ড বেবী ক্লাব-আসলাম হোসেন জানান,প্রতিযোগিতার যুগে কোন খদ্দের ফেরত না যায়,সেজন্য সব ধরনের পোষাক সহ কর্মচারির সংখ্যাও বাড়িয়েছেন। খরচের হিসেবে বেচা কেনা ভালো না হলে টিকে থাকা মুশকিল হবে।
রুপায়ন বস্ত্রালয় এন্ড গার্মেন্টস’র স্বত্তাধিকারি কামরুল হাসান বলেন, বিগত বছরগুলোয় রমজানের শুরু থেকে ঈদের কেনাকাটা চলেছে।
পোষাক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহিন আলম বলেন, কর্মহীন মানুষগুলোকে আগে ডাল-ভাতের জন্য যুদ্ধ করতে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব মানুষ কিভাবে কেনাকাটা করবে,তা নিয়েও দুঃচিন্তা থাকে। তার পরেও এবার কৃষকের আলু-পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।
কসমেটিক্স ব্যবসায়ী রায়হান ও ফ্যাশন সুজ এর আবুল হোসেন জানান, পোষাকের সাথে মানানসই জুতা-সেন্ডেল ও কসমেটিক্স কেনার বিষয়টি মাথায় রেখে মালামাল তুলেছেন।