
নিউজ ডেস্ক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘খাল খনন কর্মসূচি’কে পুনরায় সামনে এনে দেশে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশব্যাপী নদী, নালা ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বড়রামপুরের সাহাপাড়ায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের বাকি ৬৩টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন এবং এটিকে একটি জাতীয় বিপ্লবে রূপ দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, দীর্ঘ সময় খাল খনন না হওয়ায় দেশে সেচ ব্যবস্থায় স্থবিরতা এবং ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জনকল্যাণমুখী এই সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়: খাল খনন কর্মসূচিকে দৃশ্যমান ও শতভাগ কার্যকর করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করবে। সভায় উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, সরকারের এই নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।