
নিজস্ব প্রতিবেদক
দু’পক্ষের মধে সংঘর্ষের ঘটনায় করা দুই মামলায় ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের স্থগিত হওয়া কমিটির সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ দুই গ্রুপের ২৩ নেতাকর্মীকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সশরীরে তারা আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। ৬ সপ্তাহ পর তাদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
এই ২৩ জনের মধ্যে আজ মঙ্গলবার রিভা-রাজিয়া গ্রুপের ১৪ জন এবং গতকাল সোমবার সহ-সভাপতি গ্রুপের ৯ জন আগাম জামিন লাভ করেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই গ্রুপের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।
আজ জামিনপ্রাপ্ত ১৪ জন হলেন-স্থগিত হওয়া কমিটির সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, রিতু আক্তার, মিম ইসলাম, নূর জাহান, আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণা, কামরুন্নাহার জ্যোতি, জিন্নাত জাহান লিমা, বিজলি আক্তার, সোমা মল্লিক, নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, শাহানা রহমান, শিরিন সুমি ও ফারজানা নীলা।
আদালতে তাদের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম আবুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হোসেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রীভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে সহ-সভাপতিদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হন। ওইদিন রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।
একইসঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোস্তফা রেজা নুরের আদালতে মামলার আবেদন করেন। মামলায় হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়। আদালত তা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- তামান্না জেসমিন রিভা, রাজিয়া সুলতানা, নুঝাত ফারিয়া রোকসানা, মিম ইসলাম, নূর জাহান, রিতু আক্তার, আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণা ও কামরুননাহার জ্যোতিসহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন।
এর দুইদিন পর ইডেন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিতু আক্তার বাদী হয়ে লালবাগ থানায় একই অভিযোগে পাল্টা একটি মামলা করেন। রিতু ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক মোছা. রাজিয়া সুলতানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এ মামলার আসামিরা হলেন- জেবুন্নাহার শিলা, সামিয়া আক্তার বৈশাখী, মারজানা আক্তার উর্মি, কল্পনা বেগম, সোনালী আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, আফরোজা রশ্মি, রুপা দত্ত, ফাতেমা খানম বিন্তি, সাদিয়া জাহান সাথী, সানজিদা পারভিন চৌধুরী, শেখ সানজিদা, এস এম মিলি, মারিয়া, শারমিন, জান্নাতুল ফেরদৌস, মনিকা তনচংগ্যা মিমি, মায়দা বেগম মায়া, তানজিলা আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজন।
এদের অধিকাংশই ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি ও সহসম্পাদক। একইসঙ্গে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধী প্যানেল।