নিজস্ব প্রতিবেদক: সার আমদানি করতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ৮০ হাজার টন সার আনার উদ্যোগ নিলেও সেই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির। সার আমদানিতে জাহাজ ভাড়ার জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো সরবরাহকারী তাতে সাড়া দেননি।

জাহাজ সংকটের অজুহাতে এবার ইউরিয়া সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
বিসিআইসি'র সূত্রটি জানায়, সার আমদানিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও বৃহস্পতিবাত দরপত্র বাক্স খোলার পর তাতে দেখা যায়, সার আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো দরপত্রে অংশই নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার আমদানির পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখন সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে আবারো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিআইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ক্রয়) সেরনিয়াবাত রেজাউল বারী বলেন, ‘জিটুজি চুক্তিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৮০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির জন্য জাহাজ ভাড়ার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়নি। এখন সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে আবারো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।’
এর আগে বেসরকারিভাবে ইউরিয়া আমদানির জন্য দুটি দরপত্র আহ্বান করেও আশানুরূপ সাড়া পায়নি বিসিআইসি। প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্র জমা দেয়নি। আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে আরো দুই লাখ টনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সেখানে কেবল ৫০ হাজার টনের দরপত্র জমা পড়ে। তাই গত সোমবার পুনঃদরপত্রের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টন, যা কিনা ন্যূনতম নিরাপদ মজুদসীমার নিচে। মন্ত্রণালয় বলছে, মজুদ থাকা ইউরিয়া দিয়ে জুলাই পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিসিআইসির তথ্যমতে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা হবে ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। আর জুলাই-আগস্টে শুরু হওয়া আমন মৌসুমে চাহিদা থাকবে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। তাই ধান উৎপাদনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ মৌসুমের আগে চাহিদা অনুযায়ী, ইউরিয়া সংগ্রহে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসি। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সেটি ঝুলে রয়েছে। এরই মধ্যে বিকল্প উৎসের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে আগ্রাসন চালানো শুরু করলে বৈশ্বিক জ্বালানির অবাধ সরবরাহে বিশৃঙ্খলা তৈরি
হয়। এর ধাক্কা এসে লাগে বাংলাদেশেও। ফলে সরকার রেশনিং করে জ্বালানি সংকট মোকাবেলা শুরু করে। এতে মার্চের শুরুতে একটি চালু রেখে চারটি সরকারি ও একটি বহুজাতিক ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) উৎপাদনে না থাকায় অ্যামোনিয়া সংকটে ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট সারের কারখানা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডও (ডিএপিএফসিএল) বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আমদানি সংকট তৈরি হওয়ায় বন্ধ দুটি ইউরিয়া সার কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ডিএপি সার কারখানাটিও দ্রুতই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে কাফকো উৎপাদনে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার কাফকো চালু হয়েছে। সেখানকার অ্যামোনিয়া দিয়ে ডিএপি সার কারখানাটি চলে। কাফকো চালু হওয়ায় সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ডিএপি কারখানাও চালু হবে।’
সূত্র: বণিক বার্তা।