
নিজস্ব প্রতিবেদক, আত্রাই : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমির রোপণকৃত আমন ধানসহ নানা ফসল পানির নিচে ডুবে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি থেমে গিয়ে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছুটা ক্ষতি এড়ানো যেত। কিন্তু বর্তমানে পানি কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আবার বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, এ মৌসুমে উপজেলার ৬ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মনিয়ারী, বিশা, সাহাগোলা, ভোঁপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের বহু মাঠ প্লাবিত। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত।
ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, তিনি নিজে প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলেন, যা পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। এতে তার প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মনিয়ারী গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, “বর্গা নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এখন সব পানির নিচে। প্রায় ৬০ হাজার টাকার লোকসান হয়েছে। সরকারের কাছে আমরা পুনর্বাসনের দাবি জানাই।”
সাহেবগঞ্জের কৃষক মুজাম অভিযোগ করে বলেন, “কিছু স্থানে কালভার্ট বন্ধ থাকায় পানি নামতে পারছে না, ফলে কৃষকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। অথচ সমাধানে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না।”
মির্জাপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, “৫ বিঘা জমিতে যত্ন করে ধান চাষ করেছিলাম। সার-ওষুধ দিয়েছি, গাছও ভালো হয়েছিল। কিন্তু নদীর পানি বেড়ে সব ডুবে গেছে।”
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান, একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। গত শনিবার দুপুরে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, “যদি আর বৃষ্টি না হয়, তাহলে ২-১ দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু করবে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।







