1. info235@noreply0.com : corinnevick93 :
  2. : admin :
  3. modlraju58@gmail.com : raju019 :
শহীদ কামারুজ্জামানের ডায়েরি ৪৫ বছরেও উদ্ধার হয়নি - ডিবিসি জার্নাল২৪
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে রাজশাহী-ঢাকা বাস চলাচল বন্ধ রাজশাহীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত ২ বানেশ্বরে ‘ভোক্তা অধিকার’-এর নামে হয়রানি! ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন দুর্গাপুরে ৪০০ লিটার তেল নিয়ে দিনভর এসিল্যান্ড-পুলিশের তেলেসমাতি! হদিস নেই ২০ লিটার পেট্রোলের বানেশ্বরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান দুর্গাপুরে সুদের টাকা আদায় করতে এক ব্যক্তিকে কু’পি’য়ে য’খ’ম রাজশাহীর সিল্ক শিল্পে প্রাণ ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাঘায় বিক্রেতার ওয়ারিশের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘরে হা’ম’লা-মামলা দিয়ে বিক্রি করা জমি দ’খ’লের চেষ্টা পুঠিয়ায় অবৈধ তেল মজুতের দায়ে জরিমানা ফেনী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে চোরাই পণ্যসহ সিএনজি অটোরিকশা জব্দ

শহীদ কামারুজ্জামানের ডায়েরি ৪৫ বছরেও উদ্ধার হয়নি

  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৪৩ বার পড়া হয়েছে

আহমদ সফিউদ্দিন:

মৃত্যুর আগে জাহানারা জামান দেখে যেতে পারেননি নিহত স্বামীর শেষ স্মৃতিচিহ্ন। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। উদ্ধার করা যায়নি জেলখানায় লেখা জাতীয় নেতার সেইসব ডায়েরি। কে বা কারা তা গায়েব করে তারও কোন তদন্তও হয়নি।

জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামান জেলখানায় শেষ দিনগুলিতে ডায়েরি লিখতেন সারা রাত ধরে। স্ত্রী জাহানারা জামান জেলখানায় দিয়ে আসতেন গাদা গাদা নোটখাতা আর কলম। কামারুজ্জামান বলতেন, “আরো কাগজ কলম দাও। এত অল্প করে আনো কেন?” কিন্তু সেইসব লেখাসহ ডায়েরিগুলি রহস্যজনক কারণে জেলথানা থেকে আর ফেরত পাননি জাহানার জামান। জীবদ্দশায় দুঃখ ছিল তাঁর মনে। “উনার মূল্যবান জিনিসটিই আজো আমি পাইনি,” বলেছিলেন তিনি।

ডায়েরিগুলি উদ্ধারের জন্য তেমন কোন সরকারী উদ্যোগও নেয়া হয়নি। বিশেষ তদন্ত কমিটি করে এটি উদ্ধারের চেষ্টা করা উচিত। কেননা ঘটনার সাক্ষী অনেকেই এখনো জীবিত। প্রচেষ্টা সফল হলে হয়তো অজানা অনেক তথ্য উন্মোচিত হবে যা বাংলাদেশের ইতিহাস পুনঃনির্মানে সহায়ক হতে পারে।

এএইচএম কামারুজ্জামান অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দখল ছিল সাতটি ভাষার ওপর। বাংলা, ইংরেজী, আরবি, উর্দু, হিন্দী, ফারসি ও সংস্কৃত। লিখতেন কবিতাও।

আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসারও মাস ছয় আগে ১৯৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজশাহীর সাপ্তাহিক দুনিয়ায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারে শহীদজায়া বলেন, (রাজশাহীতে লাশ দাফনের পর) “ঢাকায় ফিরে জেলখানায় গেলাম উনার ডায়েরিগুলো আনতে। ফেরত দিলো কাপড়-চোপড় থালা-বাটিসহ সুটকেশ। ডায়েরি পেলাম না। বললাম এসব নিয়ে আমি কী করবো? এগুলো কেবল কষ্ট বাড়াবে। ডায়েরিগুলো দেন। নোটখাতা গুলো দেন। জেলার বললেন, ডায়েরি আমরা পাইনি। অথচ যখন দেখা করতে যেতাম গাদা গাদা নোটখাতা ও কলম দিয়ে আসতাম। লিখতে লিখতে ডায়েরি শেষ হয়ে গিয়েছিল। বলতেন আরো কাগজ কলম দাও। এত অল্প করে আনো কেন?

“উনার মূল্যবান জিনিষটি আজো আমি পাইনি। কি যে লিখেছিলেন ওতে জানতে পারিনি। এটা আমার অধিকারের জিনিষ। তাও আমাকে দেয়া হয়নি। খোন্দকার আসাদুজ্জামান (সাবেক সচিব) একসাথে ছিলেন। পরে উনার কাছে শুনতে গেছি জেলের কথা। বললেন, স্যার সারারাত ঘুমাতেন না।জায়নামাজে থাকতেন। আমাদের ইমামতি করতেন। আর লিখতেন সব সময়।”
২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাহানারা জামান (৮৪) ইন্তেকাল করেন।

(জাহানারা জামানের এই সাক্ষাৎকারটি তাঁর উপশহর বাসভবনে খায়রুজ্জামান লিটনের উপস্থিতিতে ১৯৯৫ সালে আমি এবং আমার স্ত্রী সাপ্তাহিক দুনিয়া সম্পাদক সুলতানা শারমিন গ্রহন করি। দুজনের নোট থেকে রিপোর্টটি শারমিন তৈরী করেন এবং তাঁর নামে প্রকাশিত হয় ৩১ অক্টোবর ১৯৯৫ সাপ্তাহিক দুনিয়ায়। এটি পুনরায় ছাপা হয় জনকন্ঠে ১১ জুন ১৯৯৬ সালে, জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়।)

লেখকঃ

আহমদ সফিউদ্দিন

সাংবাদিক ও সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

(প্রথম পোস্ট, ৩ নভেম্বর ২০১৪)

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: ATOZ IT HOST