
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ‘আপত্তিকর’ চিঠি পাঠানোর বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের কাছে ১০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। আজ শুক্রবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, গত ১৮ জুলাই অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের নামে ডাকযোগে সিটি করপোরেশনে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, ‘আপনার সঙ্গে দেখা করতে আমাকে সিটি করপোরেশনের গেটে অপেক্ষা করতে হবে! আমাকে কি আপনার কাছে সময় চাইতে হবে? এটা আমার জন্য কল্পনা করা কঠিন। আপনি কি জানেন যে, আমার শাশুড়ি একজন আইনপ্রণেতা? আওয়ামী পরিবারে আমার জন্ম। ভবিষ্যতে আমিও আইনপ্রণেতা বা মন্ত্রী হতে পারব। গাজীপুর ও কাটাখালীর মেয়রদের দেখুন। এখন তাদের অবস্থা কী?’
পরে রাসিক মেয়র বরাবর পাঠানো এ চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেন।
এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠান।
অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি উদাসীনতা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনার এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর পরিপন্থি। এজন্য আপনার বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিটি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
তবে, এর আগে গত ২৬ জুলাই মেয়র লিটনকে এমন ‘আপত্তিকর’ চিঠির ব্যাখ্যা এর আগেই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
মেয়র লিটনকে চিঠি পাঠানোর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের অনুরূপ (জাল/স্ক্যান) স্বাক্ষরে একটি আপত্তিকর পত্র রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কোনো স্বারক নম্বর ব্যবহার করা হয়নি। চিঠিটি উপশহর পোস্ট অফিস থেকে পোস্ট করা হয়েছে, যা মেয়রের দপ্তর থেকে বোর্ড চেয়ারম্যান জেনেছেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সব দাপ্তরিক চিঠি বোর্ড–সংলগ্ন জিপিও-৬০০০ থেকে পোস্ট করা হয়। চিঠিতে যে ধরনের প্যাড ও ফরমেট ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কোনো দাপ্তরিক পত্রে ব্যবহার করা হয় না। মেয়রের কাছে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য কে বা কারা এ স্মারকবিহীন পত্রটি উপশহর ডাকঘরে পোস্ট করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিব্রত এবং তা তদন্তের দাবি রাখে। ওই চিঠির সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো কোনো চিঠি আমি পাইনি। পেলে অবশ্যই জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি এটিকে উড়োচিঠি দাবি করে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কখনো মেয়রকে উদ্দেশ করে এমন চিঠি দিতে পারেন না। চিঠিটা টাইপ করা। অথচ দপ্তর থেকে সব চিঠি কম্পিউটার কম্পোজ করে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, চিঠিতে ‘জা শাশুড়ি’ বলে একটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তার অঞ্চলের মানুষ এমন শব্দ ব্যবহার করে না। যে অঞ্চলের মানুষ এ শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত তারাই এ চিঠি লিখেছে।
অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হওয়ার পরই মেয়রের সঙ্গে কথা বলে আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে নিয়েছি। চিঠিও দিয়েছি- এ চিঠি আমি লিখিনি।’
চিঠির বিষয়ে জানতে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এজন্য এ সম্পর্কে তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।