1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

Categories

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ও এক মানবিক পুলিশের গল্প

  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কালে দুপুরের পরে খবর পাই যে একটি ছেলে ট্রেন থেকে পড়ে তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে। খবর পেয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা দৌড়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ফোন করে ডাক্তারের নিকট নিয়ে আসি এবং আমি নিজে সেখানে যাই। ছেলেটার হালকা মানসিক সমস্যা আছে। ভাল মত কথা বলতে পারেনা। অল্প কিছু তথ্য দেয়। কাঁপাকাঁপা গলায় সে বলে তার নাম ইব্রাহীম, পিতা-শামসুল, সাং-দেবু, থানা-পীরগাছা। আমি পীরগাছা থানার ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলে সেই গ্রামের ইউপি সদস্যর নাম্বার সংগ্রহ করে তার সাথে কথা বলি এবং ইমো নম্বরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ছবি পাঠাই। এরপর ওই ইউপি সদস্য যুবককে সনাক্ত করে তার বাবার সাথে মোবাইলে কথা বলান। আমি তার বাবাকে আশ্বস্ত করে রওনা করতে বলি। ছেলেটার প্রাথমিক চিকিৎসা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ছেলেটার যাবতীয় চিকিৎসা, খাওয়া দাওয়া, শীতের কাপড় দিয়ে তাকে সাধ্যমতো সহায়তা করি। রাত ২ টার দিকে তার বাবা জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ ও এক কপি ছবি দাখিল করলে তা পর্যালোচনা করে সঠিক পাই। তারপর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সের উপস্থিতিতে ছেলেটার বাবার কাছে সুস্থ্য অবস্থায় বুঝিয়ে দেয়। যুবকের বাবা জানায় তারা গাড়ির ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরবে এমন টাকা তাদের কাছে নাই। আমি তাদের যাতায়াতের ভাড়া দিয়ে আজ (শুক্রবার) রংপুর পাঠিয়ে দেয়।’

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের সাথে এসআই শামীম হোসেন

এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে তাকে অভিভাবকদের মাধ্যমে বাড়ি পৌছানোর পর মনভরা প্রশান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এভাবেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন। এস আই শামীম হোসেন বর্তমানে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা এলাকার কাকনহাট তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বরত রয়েছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনেকেই এস আই শামীম হোসেনকে মানবিক পুলিশ আখ্যা দিয়ে কমেন্টস করেছেন। একজন লিখেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটি যখন ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলো তখন স্থানীয় লোকজন সে দৃশ্য তাকিয়ে দেখছিলেন। যুবককে উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। কিন্তু এস আই শামীম হোসেন খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসা ব্যায়ভার থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়া, শীতের কাপড় দেয়া ও বাড়ি ফিরতে যাতায়াতের ভাড়া পর্যন্ত দিয়েছেন। অপর এক ব্যাক্তি লিখেছেন, চারিদিকে যখন পুলিশের নেতিবাচক কর্মকান্ড নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে ঠিক একই সময়ে এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়েও তার গুণকীর্তন করা নিশ্চয় দোষের কিছু নয়।

এস আই শামীম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকটি ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলো। খবর পেয়ে কাছে গিয়ে দেখি তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে। সেই দৃশ্য দেখে এক সেকেন্ড দেরি না করে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিই। চিকিৎসকরা যুবকের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বললে আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে যুবককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

এরপর ঠিকানা যোগাড় করে তার অভিভাবকদের ডেকে তাকে তার অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করি। দুদিনের এই সময়টাতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমি পুলিশ। আমি নিজেকে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই নিজেকে একজন মানুষ ভেবে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে উদ্ধার করে তার সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলাম। বিণিময়ে কি পাবো বা কিছু পেতে হবে এমনটা নয়।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন