
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে রদবদল শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার দেশের ছয় জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে তিন জেলার ডিসিকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে এবং তিনজন উপসচিবকে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে সামনে আরও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে সাধারণত জেলা প্রশাসকেরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবার তাদের এ দায়িত্বে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিগত সরকারও নির্বাচনের আগে অনেক জেলায় ডিসি পরিবর্তন করেছিল। গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে পর্যায়ক্রমে সব জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়। তবে সে সময় সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা, হাতাহাতি এবং পদায়ন বাতিলের মতো ঘটনা ঘটে। নয়জন ডিসির পদায়ন বাতিল করা হয়েছিল এবং চার জেলায় রদবদল হয়।
বর্তমানে ডিসি পদে ২৪তম, ২৫তম ও ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২৪তম ও ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চাকরিতে যোগ দেন। এক-এগারোর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যোগ দেন ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। এবার ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ২৮তম বিসিএসের কিছু কর্মকর্তাকে এই পদে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
আজকের প্রজ্ঞাপনে ছয় জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে পটুয়াখালীর ডিসি করা হয়েছে। পটুয়াখালীর ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে খুলনায়, মেহেরপুরের ডিসি সিফাত মেহনাজকে কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে। মেহেরপুরে নতুন ডিসি হয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল ছালাম। নেত্রকোনার ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।







