
বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে চুড়ান্ত বহিষ্কৃত হবার পরেও দলীয় প্রোগ্রামে অংশ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বুধবার বিকেলে দলীয় কর্মসূচিতে নেন। অথচ একইদিন দুপুরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশটিও এদিন দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা ওই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যও দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ফরম বিতরণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি প্রফেসর নজরুল ইসলাম মন্ডল। একই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সদ্য বহিষ্কৃত নেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা। বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা ফেসবুকে তার নিজের ওয়ালে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেন।
একই দিন দুপুরে রাজশাহী জেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা এবং বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল এবং সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা সম্প্রতি পুঠিয়ার নন্দনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মিমকে বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ করা হলে জেলা বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা লিখিত জবাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে, বহিষ্কৃত আরেক নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে পুঠিয়ার হাতিনাদা গ্রামে দুই সেনাসদস্যের বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করে পুঠিয়া থানায় একটি মামলাও দায়ের হয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা ও রফিকুল ইসলাম রফিকের বহিষ্কারের বিষয়টি চূড়ান্ত।”
তবে বহিষ্কারাদেশ দেয়া সত্ত্বেও আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বহিষ্কারাদেশের পরেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বিএনপির ভিতরে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এভাবে প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলেও ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা মুঠোফোনে জানান- আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে। বিষয়টি নিয়ে আমি দলীয় হাইকমান্ডের কাছে যাবো। প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করে আমি আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করবো।
বহিষ্কার করার পরেও রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় থাকবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- জনগণ আমাকে যতক্ষন চাইবেন ততক্ষণ আমি রাজনীতি করবো। কে কি গায়েবি সিদ্ধান্ত দিলো তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।