1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
নাটোরে চিকিৎসক-শিক্ষককের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল - বিচার দাবী - ডিবিসি জার্নাল২৪
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল পেলো দুর্গাপুরের শিক্ষার্থীরা হিজলী এখন স্মার্ট ভিলেজ! দুর্গাপুরে বাল্যবিয়েতে ঘটকালির অভিযোগে ঘটকের ৬ মাসের কারাদণ্ড  রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ডা. মনসুরকে কটুক্তি করে আ.লীগ নেতার অশালীন মন্তব্যে তোলপাড় বিনম্র শ্রদ্ধায় মরহুমা জাহানারা জামানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত সবুজ পোশাক কারখানায় বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নভেম্বরে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি তথ্য উদঘাটনে সাংবাদিকদের বাধা দেয়া যাবে না- হাইকোর্ট রাজশাহীতে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

Categories

নাটোরে চিকিৎসক-শিক্ষককের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল — বিচার দাবী

  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২
  • ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর

নাটোরে এক জনপ্রিয় চিকিৎসক ও শিক্ষিকার অবাধ যৌনাচারের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এতে ঐ কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও শহরের সচেতন মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের অবাধ যৌনাচারে সহযোগীতা না করায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন সেবিকাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ওই সেবিকা। তাদের বিচার দাবী করে অভিযোগ করেছেন কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের নিকটও।
এ ছাড়া কলেজ শিক্ষিকার অবাধ যৌনাচারের বিচার দাবী করে কলেজের অধ্যক্ষ ও কলেজ গভঃনিং বডির সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছে ওই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর শহরের পশ্চিম আলাইপুর হাফরাস্তা এলাকায় বসবাসকারী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম লিপন ও নাটোর সিটি কলেজের সমাজকল্যাণ বিষয়ের প্রভাষক নাজমুন নাহার সাথীর ৪০মিনিট ও ২৮ মিনিটের অবাধ যৌনাচারের দুটি ভিডিও নাটোর শহরের সচেতন প্রায় সকল মানুষের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে।

এদিকে, স্কুল শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন চিকিৎসক ও শিক্ষিকার এ ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পরার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছে ।

অপরদিকে, অনৈতিক কাজে লিপ্ত শিক্ষিকাকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে বরখাস্ত অথবা বহিষ্কার না করায় কলেজটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাটোরের জেলা প্রশাসকের কাছে এক নারী লিখিত অভিযোগ করে বলেন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমিনুল ইসলাম লিপন ও নাজমুন নাহার সাথী নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত অবাধ যৌনাচারে মিলিত হন। তিনি এই হাসপাতালে গত ছয় বছর থেকে সহকারি সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তাদের অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগীতা না করায় প্রথমে তাকে প্রকাশ্যে মারপিট করে ও জেল খাটানোর হুমকি দেয়। পরে চলতি বছরের ৫মার্চ পরিকল্পিত ভাবে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠায়। যে মানুষ বিয়ে বহিভূত অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত এবং সেটা ভাইরাল হয়ে শহরের সব মানুষের কাছে থাকে তিনি কিভাবে তার দায়িত্বে বহাল থাকেন। তিনি তাদের বিচার দাবী করেছেন।

অপরদিকে, নাটোর সিটি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে কলেজের সমাজ কল্যাণ বিষয়ের প্রভাষক নাজমুন নাহার সাথীর উপযুক্ত বিচার দাবী করে আবেদন করেছে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।

নাটোর সিটি কলেজের দুজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কোন শিক্ষক এমনটা করতে পারে তা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারি না। কোথাও মুখ দেখাতে পারছি না। আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমাদের এমন একজন সহকর্মী আছে এটা ভাবতেই আমরা লজ্জা পাচ্ছি। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর সিটি কলেজের সমাজকল্যাণ বিষয়ের প্রভাষক নাজমুন নাহার সাথীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডাঃ লিপন এবং আমার মধ্যে চিকিৎসক রোগীর সম্পর্ক । আমি চিকিৎসার জন্য নিয়মিত তাঁর চেম্বারে যাতায়াত করতাম । একপর্যায়ে দুইজনের সম্মতিতে দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে । এ ভিডিও কীভাবে ফাঁস হলো তিনি জানেন না। আমি অভিযোগকারী নারীকে চিনি ও জানিনা। তৃতীয় একটি পক্ষ আমার সুনামক্ষুন্ন করার জন্য এসব অভিযোগ করছে ।এই ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে আমার কোনো সম্পৃততা নেই।

অপরদিকে নাটোরে বসবাসকারী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম লিপন বলেছেন, একাধিকবার মুঠোফোনে কল এবং এসএমএস দেওয়ার পরও তিনি রিসিভ করেননি । একপর্যায়ে তাঁর চেম্বারে গেলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি।

ডাঃ আমিনুল ইসলাম লিপনের ঘনিষ্টজন বলে পরিচিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ক্লিনিক মালিক জানান,ওই শিক্ষিকা ফেসবুক এবং ফোনে ডাঃ লিপনের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরী করে। এক পর্যায়ে সে নিজেই ঘনিষ্ট মূহর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং স্থানীয় কিছু তরুণকে দিয়ে ভিডিওটি পাঠিয়ে চিকিৎসককে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। মোটা অংকের টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে মান ইজ্জতের কথা ভেবে চিকিৎসক টাকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। কিন্তু ততক্ষণে ভিডিওটি হাতে হাতে ছড়িয়ে পরে । ভিডিওটি আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাটোর শহরের কোন এক ক্লিনিকে ডাক্তার আমিনুল ইসলাম লিপন এবং শিক্ষিকা নাজমুন নাহার সাথী সেক্স করেন। এসময় সাথি তার মোবাইল ফোন দিয়ে নিজেই গোপনে পুরো সেক্স ভিডিওটি ধারণ করেন।

সূত্র বলছে, শিক্ষিকা নাজমুন নাহার সাথীর সাথে ডাক্তার আমিনুল ইসলাম লিপনের মনোমালিন্য হয়। পরবর্তীতে সাথী নিজেই সেক্স ভিডিওটি রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন ব্যাক্তিদের কাছে পাঠায়। পরবর্তীতে ঢাকায় জেলা যুবলীগ এবং সাবেক ছাত্রলীগের এক নেতার হস্তদক্ষেপে অন্তত ২৫লা্খ টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়। আর সাথী পান মোট ২০লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই রফাদফা বৈঠকে থাকা সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর সিটি কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান বিষয়টি খুবই বিব্রতকর আখ্যায়িত করে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাজমুন নাহার সাথীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ পাওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে মিটিং ডেকে শিক্ষিকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ।

অপর দিকে কলেজের গভঃর্নিং বডির সভাপতি ও নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসতিয়াক আহমেদ ডলার বলেছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন।এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান চরম ভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে । তাদের অপকর্মের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক বিষয়। শিক্ষকতা আদর্শের পেশা। শিক্ষার্থী ও সমাজের মানুষ তাদের অনুসরণ করেন। একজন শিক্ষিকার এমন ভিডিও সমাজের অবক্ষয় ছাড়া কিছুই না।এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভা ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ।অভিযোগটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: ATOZ IT HOST