1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মূল্য নিয়ে বাটা’র পকেট কাটা কারসাজি তানোরে প্রেমিকার ঘরে ঢুকে প্রেমিক আটক, অতঃপর থানায় ধর্ষনের মামলা দুর্গাপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাত! দুর্গাপুরে শ্বশুরের সাথে পরকীয়ায় জড়ানোয় স্ত্রীকে হত্যা, পিতাকে কুপিয়ে জখম বাগমারায় ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিন বখাটের বিরুদ্ধে মামলা দুর্গাপুরের পানানগর ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জন কারাগারে দুর্গাপুরে পৌর ও ইউপি সম্মেলনে আ.লীগের ত্যাগী নেতারা কোণঠাসা দুর্গাপুর পৌর আ.লীগের নব-গঠিত কমিটি স্থগিত! চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুষ নেয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ট্রাফিক পুলিশ আটক, টিএসআই ক্লোজ-কনস্টেবল বরখাস্ত দুর্গাপুরে ৫০তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ

Categories

দুর্গাপুরে পৌর ও ইউপি সম্মেলনে আ.লীগের ত্যাগী নেতারা কোণঠাসা

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০২২
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রবীণ ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়ন (নৌকা প্রতীক) দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচন গুলোতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তাঁর মনোনীত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। এমনকি কোনো কোনো নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। অথচ এসব নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারী নেতাদেরকেই আনা হচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দুর্গাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। যার কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্বে আসা কোনো কোনো নেতা স্বয়ং দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেউ চ্যালেঞ্জ করে তাঁর সিদ্ধান্ত ভুল দাবি করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন। দলের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে নৌকা বিরোধী নেতাদের নেতৃত্বে আনার পিছনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককেই দায়ী করছেন দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা পুঠিয়া দুর্গাপুর আসনের সাবেক এমপি। বিএনপি-জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ততা, মনোনয়ন বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের গত সম্মেলনে দারাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। তারপর থেকেই তিনি এই আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাদের এবং তার পছন্দের নেতাদের বেছে বেছে নেতৃত্বে আনছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দারার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ দুর্গাপুর উপজেলার ৩নং পানানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সভাপতি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাহার আলীকে। আজাহার আলীর ছোটভাই সেলিম রেজা পানানগর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও আজাহার আলী দাবি করেছেন, তিনি অনেক আগেই আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে পনানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

৭ নং জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ মার্চ। এখানেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সভাপতি করা হয়েছে মিজানুর রহমানকে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ফিরোজ আহাম্মেদকে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফিরোজ আহাম্মেদ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

১ নং নওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এখানেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আক্কাস আলীকে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আক্কাস আলী বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর বাসায় ভোট চাইতে যাবার কারনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন।

৬ নং মাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১১ মার্চ। এখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে সভাপতি করা হয়েছে সোলাইমান আলীকে। তিনিও গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনে আজাহার আলীকে সভাপতি ও শরিফুজ্জামান শরিফকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা তাদের নাম ঘোষণা করেন। এই দুই নেতাই বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মজিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামকে। মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ভুল দাবি করে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন শরীফ। শরীফের দেয়া সেই বক্তব্যের ভিডিওটি গত কয়েকদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে। এমনকি নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় গোপন বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই দুই নেতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন নির্বাচন পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। চারদিন কারাভোগ করে তারা জামিনে বের হন। এছাড়া এই দুই নেতার বাড়ি একই ওর্য়াডে। যার ফলে পৌর এলাকার অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতারাও ক্ষোভে ফুঁসছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৫ মার্চ রাজশাহী মহানগর ও জেলার নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নৌকা বিরোধী নেতা ও তাদের সহায়তাকারী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে না আনার ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারী দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানছেন না জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।

অভিযোগ সম্পর্কে আজাহার আলী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আমি ও শরিফুজ্জামান নৌকার বিপক্ষেই ছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্র বহির্ভুত ভাবে সম্মেলন করে নৌকা বিরোধী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে। ফলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নৌকার বিরোধিতাকারীদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে নজরুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। তখন গোটা দুর্গাপুরই তার বিপক্ষে ছিল। প্রশাসনিক ভাবে নজরুলকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তখন যারা নৌকার বিরোধিতা করেছিলেন পরে তাদের সাধারণ ক্ষমা করে দিয়েছে দল। তাই এখন তাদের দলীয় পদে বসাতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন ‘আমি তো এখন জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে। দুর্গাপুরের নেতৃত্বে কারা আসবেন সেটা সেখানকার নেতাকর্মীরাই ঠিক করেছেন। তাদের সিদ্ধান্ত আমি শুধু ঘোষণা দিয়েছি মাত্র।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন