
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনপুর : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো একক গোষ্ঠীর সম্পত্তিতে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়; এটি ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ফসল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীর মোহনপুরে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শফিকুল হক মিলন বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হলেও অভিভাবকরা ঘরে বসে থাকেননি; তারা সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গুম, খুন, অপশাসন, দুর্নীতি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং ‘আয়নাঘর’-এর সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেই সাধারণ মানুষ আত্মত্যাগ করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও শিল্পকারখানার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এমপি মিলন আরও বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। প্রতি বছর ৫ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ঘোষণা দিয়ে তিনি “করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান সামনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আক্তার সামসুজ্জোহা ও বাচ্চু রহমান, রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন শাহসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।







