1. info235@noreply0.com : corinnevick93 :
  2. : admin :
  3. modlraju58@gmail.com : raju019 :
আরএমপি'র সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিষয়ে তদন্ত শুরু, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য! - ডিবিসি জার্নাল২৪
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পুঠিয়ায় সড়কে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, আগুনে পুড়ল দুই ডাম্প ট্রাক আরএমপি’র সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিষয়ে তদন্ত শুরু, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য! বাঘায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল সম্পন্ন বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর- তথ্যমন্ত্রী স্বপন রাজশাহীতে যৌন নিপীড়নের মামলায় সাংবাদিক রাব্বানী কারাগারে ইউরিয়া সার আমদানিতে দরপত্রে আগ্রহ নেই সরবরাহকারীদের, বিসিআইসি’র দাবি জাহাজ মিলছেনা! মহান মে দিবসে রাজশাহীতে বিক্রয় প্রতিনিধি সমবায়ের র‍্যালি নারী সার্জেন্টের সাথে প্রতারণার অভিযোগ, ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে! নেপথ্যের কি? রাজশাহীতে তেল নিতে লাইনে, হিটস্ট্রোকে বৃদ্ধের মৃত্যু বাঘায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

আরএমপি’র সাবেক ওসি মাহবুব আলমের বিষয়ে তদন্ত শুরু, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য!

  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক নিউজ: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ভ্রূণ হত্যা, কৌশলে স্ত্রীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ, একাধিক নারী পুলিশ ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, থানায় সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং ঘুষ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় জোরেশোরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তর, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ, আরএমপি সহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পৃথক পৃথক তদন্ত টিম গোপনে বিতর্কিত ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে।

সম্প্রতি, আরএমপি’র সাবেক ওসি মাহবুব আলমের চতুর্থ স্ত্রী দাবি করে আরএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাজাহানের কাছে দুই পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। তারপর থেকেই মূলত ওসি মাহবুব আলমকে ঘিরে ফের নানা বিতর্কের ঝড় উঠে। ওসি মাহবুব আলমের নৈতিকস্থলন সহ বিভিন্ন অপকর্মের ফিরিস্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

আরএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট সাবিহা আক্তারের অভিযোগের পর ওসি মাহবুব আলমকে নিয়ে রাজশাহী জেলা ও নগর পুলিশ সহ নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ওদিকে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয় থেকে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন সুলতানা নেলিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার ইন্সপেক্টর মাহবুবের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

ইতোমধ্যে ওসি মাহবুব আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. মোহাম্মদ শাজাহান জানান, ব্যক্তির দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিমূলক নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানায়, ২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সহ চার দলীয় জোট সরকার গঠন করে। ওই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে সাব-ইন্সপেক্টর (আউট সাইড ক্যাডেট) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অত্যন্ত তড়িঘড়ি দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিতে সরকার ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত সময় না থাকাই তাড়াহুড়ো করে একটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করে তলে তলে নিয়োগ দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও জেলা পর্যায়ে বাছাই পর্ব, লিখিত পরীক্ষা, ভাইবা ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম চলছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

২০০৫ সালের মাঝামাঝি পুলিশের এস.আই (উপ-পরিদর্শক) পদের জন্য চুড়ান্ত মনোনীত হন মাহবুব আলম। নিয়োগ প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে রাজশাহী পুলিশ লাইন্স মাঠে ফিল্ড টেস্ট হয়। কিন্তু ফিল্ড টেস্টে অংশই নেননি মাহবুব আলম। ওইদিন বিকেলে মাহবুব আলম বন্ধু-সহপাঠীর মাধ্যমে জানতে পারেন পুলিশের এস আই পদে নিয়োগ নিতে অনেকেই পুলিশ লাইন্স মাঠে অবস্থান করছেন। কিন্তু সকাল ৮টার মধ্যে যারা মাঠে প্রবেশ করেছেন কেবল তাদের মধ্যে থেকেই বাছাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

মাহবুব আলম উপায়ন্তর না পেয়ে সাথে অপর এক ছাত্র নেতাকে সংগে নিয়ে রাজশাহী-৫ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার রাজশাহী নগরীর বাসায় যান। হন্তদন্ত হয়ে বাসায় ঢুকতে দেখে নাদিম মোস্তফা রাগান্বিত হয়ে ঘটনা কি জানতে চান। মাহবুব ঘটনা খুলে বলেন এবং চাকুরী করার আগ্রহ প্রকাশ করে নাদিম মোস্তফার কাছে হাতে-পায়ে ধরে দীর্ঘক্ষণ অনুনয়-বিনয় করেন। এরপর নাদিম মোস্তফা টেলিফোনে তৎকালীন রাজশাহীর ডিআইজি’র সাথে কথা বলেন এবং মাহবুব সহ আরও এক ছাত্র নেতাকে এস.আই পদে চাকুরী নিশ্চিত করতে যত ধরনের প্রক্রিয়া আছে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তার কথার ব্যত্যয় ঘটলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন।

ওই সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নেয়া হতো বিধায় হয়তো নাদিম মোস্তফার আদেশ প্রতিপালন করতে পেরেছেন ডিআইজি। সে সময় ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণদের হাতে ফরম দিয়ে পূরণ করে খামের মধ্যে ভরে ডিআইজি অফিসের বক্সের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেলতে হতো। বর্তমান সময়ের অনলাইনে আবেদন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা থাকলে সেই সময় হয়তো মাহবুব আলম পুলিশে নিয়োগ পেতেন না।

সূত্রটি আরও জানান, সারাদেশের চূড়ান্ত মনোনীতদের রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ নিতে হয়। প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছর শিক্ষানবিশ (পিএসআই) এস.আই হিসেবে বিভিন্ন থানায় যোগদান করে মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। দুই বছর পার হলে পুলিশ বাহিনীতে এস.আই পদে চাকুরী স্থায়ী করণ করা হয়।

এদিকে, ঘটে আরও এক বিপত্তি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে এস.আই পদে প্রশিক্ষণ শেষ করা সম্ভব না দেখে উপরের আদেশে এক বছরের জায়গায় মাত্র ৬ মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিভিন্ন থানায় পোস্টিং দেয়া হয়।

পরবর্তীতে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে ওয়ান ইলেভেন ঘটে। যার ফলে সেনা সমর্থিত সরকার দেশের ক্ষমতাভার নেন। এরপর পুলিশ বাহিনীর ভেতরে সংস্কারের হিসেবে ৬ মাস প্রশিক্ষণ নেয়া সেই শিক্ষানবিশ এস.আইদের ফের আরও ৬ মাস প্রশিক্ষণ নিতে পুলিশ একাডেমিতে পাঠানো হয়। যে ক’জন শিক্ষানবিশ পিএসআই ফের পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে অংশগ্রহণ করেন তাদের মধ্যে এই ওসি মাহবুব আলম একজন।

ওসি মাহবুব আলম পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকেই অধিকাংশ সময় রাজশাহী নগর পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। মতিহার, শাহমখদুম, বোয়ালিয়া, দামকুড়া ও চন্দ্রিমা থানায় বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরমাঝে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলন না থাকলেও ওই সময় অনেক কানাঘুষা চললে একপর্যায়ে পুলিশের ওই নারী কর্মকর্তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হোন মাহবুব আলম। যদিও ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা ওই সময় এক কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী ছিলেন।

কিছুদিন একসাথে সংসার করলেও পরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং উভয়ে আলাদা হয়ে যান। ওই ঘটনার পর আরও একাধিক নারী পুলিশ ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুদর্শন পুলিশ অফিসার মাহবুব আলমের। সম্ভবত এই সুদর্শন চেহারাই তার কাল হয়ে দাঁড়াবে।

এছাড়াও, চন্দ্রিমা থানায় কর্মরত থাকাকালীন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাকে ক্লোজড করা হয় এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ওসি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে একাধিক মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ওসি মাহবুব আলমের বিষয়ে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটির এক প্রধান কর্মকর্তা নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, তদন্ত চলছে বিভিন্ন ভাবে। অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। আরো কিছু ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকেই হয়তো বিস্তারিত তথ্য আপনারা জানতে পারবেন। আপাতত এর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা।

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: ATOZ IT HOST