
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারে এলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সরকারে এলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে প্রত্যেক ঘরে ঘরে এই কার্ড পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড একটি শক্তি। এর মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদেরও সামাজিক গুরুত্ব বাড়বে।”
মন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২২ দিনের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৬ মার্চ থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে, যাতে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরার সময় কাজে লাগানো যায়।
এছাড়া প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার, সেচ ও বীজ কিনতে পারবেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছরে আইনকানুন ছিল না, অনেক ক্ষেত্রে টাকা ছাড়া কার্ড পাওয়া যেত না। এবার কোনো টাকা-পয়সা লাগবে না। হতাশ হবেন না, সবাই কার্ড পাবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম এটা আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি আপনাদের ঋণ শোধ করতে পারব না, তবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।”
মির্জা ফখরুল জানান, ২০২৭ সালে এলাকায় মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানাসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা।