
নিউজ ডেস্ক: আজ বুধবার, ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করছেন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, আরবি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬৩ বছরের জীবনে তিনি মানবজাতিকে ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ দেখান এবং একই তারিখে ইন্তেকাল করেন।
আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত আরব সমাজে সত্য ও ন্যায়ের আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভূত হন মহানবী (সা.)। মক্কার কুরাইশ গোত্রের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া হজরত মুহাম্মদ (সা.) অল্প বয়সেই সত্যবাদিতা ও সততার জন্য পরিচিতি লাভ করেন। ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা, সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি বিশ্বমানবতার জন্য আদর্শ হয়ে ওঠেন।
৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি ইসলামের বাণী প্রচার করেন। আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাশাপাশি মদিনায় ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও পারস্পরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণভিত্তিক সমাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনা সভাসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান নফল নামাজ আদায় ও রোজা রাখছেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলো পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কালেমাখচিত পতাকা ও জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাণীতে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনও আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদ মাগরিব থেকে পক্ষকালব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন শুরু হয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মতে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।







